জাতীয় ডেস্ক | বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট | 3 বার পঠিত

আগের তিন লটের তুলনায় বেশি দামে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও দুই লাখ ২০ হাজার টন গম আমদানি করছে সরকার। সিঙ্গাপুর থেকেও ৫০ হাজার টন গম আনা হবে। মোট দুই লাখ ৭০ হাজার টন গম আমদানিতে সরকারের ব্যয় হবে এক হাজার ৫২ কোটি ৪০ লাখ টাকা। তবে সিঙ্গাপুরের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গমের দাম প্রতি টনে ২৪ ডলার বেশি পড়ছে। প্রতি টনে দেশি মুদ্রায় প্রায় তিন হাজার টাকা বেশি ব্যয় হবে। গতকাল বুধবার ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ওই দুটিসহ আরও কিছু প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে।
এ ছাড়া চট্টগ্রামে বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানা সম্প্রসারণের জন্য সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) জলিল টেক্সটাইল মিলের জমি সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরসহ কয়েকটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে কমিটির দুটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) পদ্ধতিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দুই লাখ ২০ হাজার টন গম আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতি টনের দাম ধরা হয়েছে ৩২২ মার্কিন ডলার। এতে স্থানীয় মুদ্রায় সরকারের মোট ব্যয় হবে ৮৬৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।
এর আগে গত জুলাই, অক্টোবর ও ডিসেম্বরে তিন লটে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম কেনার ক্ষেত্রে প্রতি টনের দাম ছিল যথাক্রমে ৩০২ দশমিক ৭৫, ৩০৮ এবং ৩১২ দশমিক ২৫ ডলার। সরকার অন্যান্য দেশ থেকে যে দামে গম আমদানি করে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনতে প্রতি টনে ২৫ থেকে ৩০ মার্কিন ডলার বেশি খরচ হয়।
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা পাল্টা শুল্ক কমানোর দরকষাকষিতে সুবিধা পেতে গত বছর জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরকারিভাবে গম আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর আওতায় বাংলাদেশ পাঁচ বছর মেয়াদে প্রতিবছর সাত লাখ টন করে গম আমদানি করবে। স্মারক সইয়ের পর এ পর্যন্ত মোট ৮ দশমিক ৮ লাখ টন গম কেনা হয়েছে।
বৈঠকে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে সিঙ্গাপুরের এগ্রোকর্প ইন্টারন্যাশনাল পিটিই থেকে ৫০ হাজার টন গম আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে ব্যয় হবে ১৮২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। প্রতি টনের দাম ধরা হয়েছে ২৯৭ দশমিক ৯২ মার্কিন ডলার।
আগের চেয়ে বেশি দরে দুই কার্গো এলএনজি
গত সপ্তাহের তুলনায় বেশি দামে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে দুই কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিপি সিঙ্গাপুর এবং যুক্তরাজ্যের টোটাল এনার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার থেকে এই এলএনজি আনা হবে। দুই কার্গো এলএনজি কিনতে ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৪৩৭ কোটি টাকা। গত সপ্তাহে একই পরিমাণ এলএনজি কিনতে ব্যয় ধরা হয়েছিল এক হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা।
রাশিয়া ও কানাডা থেকে ৭৫ হাজার টন মিউরেট অব পটাশ (এমওপি) সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে ৩৫১ কোটি ২৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা। একই সঙ্গে ‘জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের সঙ্গে লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও ফেনী জেলার সংযোগকারী সড়ক যথাযথ মানে উন্নীতকরণ’ প্রকল্পের পূর্তকাজে প্রায় ২৮১ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে।
সমরাস্ত্র কারখানার জন্য জমি
বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানা সম্প্রসারণের জন্য বিটিএমসির নিয়ন্ত্রণাধীন চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটের জলিল টেক্সটাইল মিলের ৫৪ দশমিক ৯৯ একর জমি সেনাবাহিনীকে দেওয়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা কমিটি। প্রতীকী মূল্যের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার এক টাকা।
এর আগে ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই একই জমি প্রতীকী মূল্যে হস্তান্তরের প্রস্তাব উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হয়েছিল। তখন অন্তর্বর্তী সরকার অনুমোদন করেনি। একই প্রস্তাব ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর দ্বিতীয়বারের মতো অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় ওঠে। ওই প্রস্তাবে বকেয়া দায় পরিশোধ করে জমি নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। ওই প্রস্তাবেও অন্তর্বর্তী সরকার অনুমোদন দেয়নি।
Posted ২:৩০ এএম | বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Reporter
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।